১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভূমি ব্যবস্থাপনায় আসতে পারে ‘ভূমি মালিকানা কার্ড’, কমতে পারে কাগজপত্রের ঝামেলা

ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে সরকার একটি নতুন উদ্যোগের পরিকল্পনা করছে। এ উদ্যোগের আওতায় ভবিষ্যতে চালু হতে পারে ভূমি মালিকানা সনদ (Certificate of Land Ownership-CLO) বা ‘ভূমি মালিকানা কার্ড’। প্রস্তাবিত এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে জমির মালিকানা যাচাই ও ভূমিসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জমির মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেসে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে আলাদা করে দলিল, খতিয়ান বা অন্যান্য কাগজপত্র বহন করার পরিবর্তে একটি স্মার্ট কার্ড কিংবা কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে জমির মালিকানা যাচাই করা সম্ভব হতে পারে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

প্রস্তাবিত Certificate of Land Ownership (CLO)-এ জমির মালিকের পরিচয়, জমির অবস্থান, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই সনদ পাওয়ার জন্য জমির নামজারি সম্পন্ন থাকা, হালনাগাদ খতিয়ান এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে এখনো জানানো হয়নি।

এছাড়া ভূমি মালিকানা কার্ড প্রদানের জন্য কী পরিমাণ ফি নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ভবিষ্যতে এটি নামজারি বা অন্যান্য ভূমিসেবার সঙ্গে সমন্বিত নির্ধারিত ফি-এর আওতায় আনা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে একই জমি একাধিকবার বিক্রি, জাল দলিল তৈরি কিংবা মালিকানা নিয়ে প্রতারণার মতো অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে জমি কেনাবেচা, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ এবং মালিকানা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দেশের সব জমির তথ্য ডিজিটাল ডেটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করতে সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি তথ্য সংশোধন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভূমি মালিকানা কার্ড (CLO) চালুর বিষয়টি বর্তমানে পরিকল্পনা বা প্রস্তাবনা পর্যায়ে রয়েছে। সরকারিভাবে চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের পর এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নীতিমালা, আবেদন প্রক্রিয়া, সময়সূচি এবং ফি নির্ধারণ করা হবে।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টরা ভূমির মালিকদের নামজারি হালনাগাদ রাখা, নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হতে কোনো জটিলতা না হয়।

সম্পর্কিত খবর

সর্বাধিক পঠিত

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের...

ঢাকার সম্ভাবনাময় রিয়েল এস্টেট খাতে মেগা বিনিয়োগের সুযোগ: নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজছে ‘নেক্স রিয়েল এস্টেট’
স্বাধীনতা নারী উদ্যোক্তা ফোরামের সম্মাননা সদস্যপদ পেলেন তাবাসসুম ইমাম

স্বাধীনতা নারী উদ্যোক্তা ফোরামের সম্মাননা সদস্যপদ পেলেন তাবাসসুম ইমাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নিষ্ঠা এবং সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘স্বাধীনতা...