৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগকে স্বাগত জানাল রিহ্যাব, নির্মাণসামগ্রীর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের দাবি

প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। তবে একই সঙ্গে রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর ওপর আরোপিত অতিরিক্ত করের বিরোধিতা করেছে সংগঠনটি।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থকে বৈধভাবে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে সরকারের এ উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

ড. আলী আফজাল বলেন, দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপ্রদর্শিত অর্থ মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রয়েছে। এই অর্থকে যদি আবাসনসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তা অর্থনীতির মূল স্রোতে ফিরে আসবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিনি আরও বলেন, আবাসন খাত দেশের অন্যতম বৃহৎ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত। এ খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৬৯টি শিল্প খাত জড়িত রয়েছে। ফলে আবাসন খাতে নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে শুধু ফ্ল্যাট বা ভবন নির্মাণই নয়, বরং রড, সিমেন্ট, সিরামিক, বৈদ্যুতিক পণ্য, আসবাবপত্র, পরিবহনসহ বহু শিল্পে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে।

রিহ্যাব সভাপতি মনে করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত কর পরিশোধের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থকে বৈধ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে অর্থনীতিতে নতুন মূলধনের প্রবাহ সৃষ্টি হবে এবং আবাসন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হবে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে একটি সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, করব্যবস্থা যত বেশি সহজ ও গ্রহণযোগ্য হবে, মানুষ তত বেশি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর প্রদান করবে এবং অপ্রদর্শিত অর্থ সৃষ্টির প্রবণতাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।

অন্যদিকে, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগকে স্বাগত জানালেও নির্মাণসামগ্রীর ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রিহ্যাব। ড. আলী আফজাল বলেন, বিশেষ করে রডসহ বিভিন্ন নির্মাণ উপকরণের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের ফলে নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে আবাসন খাতের ক্রেতাদের ওপর, ফলে ফ্ল্যাট ও আবাসন ইউনিটের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

তিনি সরকারের প্রতি এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আবাসন খাতকে গতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে বাসস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্মাণসামগ্রীর ওপর অতিরিক্ত কর কমানো প্রয়োজন। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সম্পর্কিত খবর

সর্বাধিক পঠিত

আবাসন খাতকে পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আবাসন খাতকে পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশের আবাসন শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ...