২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের স্থান নেই: প্রধানমন্ত্রী

বাসস ফাইল ছবি

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতি কোটাবিরোধী আন্দোলনের ছদ্মবেশে জঙ্গিবাদের বর্বরতা প্রত্যক্ষ করেছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের কোনো স্থান হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি আবারও জাতিসংঘ এবং অন্যান্য দেশের কাছে তাদের দক্ষতার মাধ্যমে দেশব্যাপী তাণ্ডব চলাকালীন প্রতিটি ঘটনার তদন্তে সহযোগিতা চেয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষক লীগ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন, জামায়াত ও শিবির আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে এবং নিষিদ্ধ হওয়ার পর তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সবাইকে এ লক্ষ্যে সতর্ক থাকতে হবে এবং আমি দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি জানেন তার জীবননাশের প্রচেষ্টা আগের ঘটনার মতো বারবার আসতে পারে। তিনি বলেন, কিন্তু, আমি পাত্তা দিই না। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন এবং তিনি তা নিয়েও নেবেন। জনগণের কল্যাণে যা যা করা দরকার আমি সবই করব। সাম্প্রতিক সহিংসতায় বহু মানুষের প্রাণহানি ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনের আড়ালে জঙ্গিরা তাদের হিংস্র দাঁত দেখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সর্বস্ব হারিয়ে কাছের এবং প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা তিনি জানেন। ‘সুতরাং, আমি প্রত্যেকটি জিনিসের (হত্যাযজ্ঞের) তদন্ত চাই। এর পেছনে কারা রয়েছে, কীভাবে এবং কী কী ঘটনা ঘটেছে।’

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুর নাহার লাইলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহিদ ও সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সম্প্রতি গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে আমেরিকায় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের ওপর সরকারি সংস্থার হামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমেরিকায় যেভাবে মেরে ধরে, শিক্ষকদের রাস্তার ওপর ফেলে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে হার্ড লাইনে গিয়ে আন্দোলন দমন করেছিল, তার সরকার সে পথে যায়নি। শক্তিও প্রয়োগ করেনি। বরং তাদের দাবি মেনে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী মিথ্যা, অপপ্রচার সমানে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি ক্ষমতায় থেকে মানুষের জীবন নেব, সেটা তো কখনো হতে পারে না। আমি তো নিজেই সবকিছু হারিয়েছি এবং গ্রেনেড হামলা, বোমা হামলা ও সরাসরি গুলি করে বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে এবং আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছেন। তারপরও আমি সাহস নিয়ে কাজ করে গেছি। ভয়ও পাইনি, পিছুও হটিনি। কারণ আমার লক্ষ্য এ দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সে কাজটা আমাকে করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ তারিখ টেলিভিশন ভাষণে আমি শিক্ষক ও অভিভাবকদের বলেছিলাম, আপনাদের সন্তানদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে, আপনারা সন্তানদের বের হতে দেবেন না। কারণ আমিতো জানি এদেশে জঙ্গিবাদী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কতদূর কি করতে পারে। আমি তাদের সতর্ক করেছি যে, আপিল বিভাগের রায়ে শিক্ষার্থীদের হতাশ হতে হবে না। তাদের যেটা দাবি সেটা এসে যাবে। কারণ আদালত ও আইন মেনেই সবাইকে চলতে হয়। তারপরেও আজকে বাংলাদেশে এতগুলো প্রাণ যে ঝরে গেল এর দায় দায়িত্ব কার? একটা জিনিস গেলে আবার গড়ে তোলা যায়, কিন্তু জীবন গেলে তো আর ফিরে পাওয়া যায় না।

সম্পর্কিত খবর

সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম: কর্পোরেট রিয়েল এস্টেট লিডারশিপে বিশেষ স্বীকৃতি পাচ্ছেন নেক্স রিয়েল এস্টেটের সিইও তাবাসসুম ইমাম