৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন (রিহ্যাব) চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলা এবং নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩,০০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল চেয়েছে।

আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে রিহ্যাবের সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ইতোমধ্যে দেশের আবাসন খাতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে খাতটিকে সচল রাখতে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ৩,০০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল চেয়েছি।” তিনি আরও জানান, গভর্নর তাদের প্রস্তাবগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।

ওয়াহিদুজ্জামান আরও বলেন, বাড়ির ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার জন্যও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা প্রয়োজন, যাতে আরও বেশি মানুষ বাড়ি কেনার সামর্থ্য পায়।

তিনি উল্লেখ করেন, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান মানুষের মৌলিক চাহিদা। এই চাহিদা পূরণে সাশ্রয়ী আবাসন ঋণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান উচ্চ সুদের কারণে মধ্যম আয়ের অনেক মানুষের পক্ষে বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বৈঠকে রিহ্যাব আরও কয়েকটি প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে ছিল সবুজ ভবন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণে বিশেষ অর্থায়নের সুবিধা চালু করা, পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে আবাসন প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট তহবিল গঠন।

ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে রাজধানীর বাইরে স্বল্পমূল্যের আবাসন ঋণ সম্প্রসারণের প্রস্তাবও দেয় সংগঠনটি।

রিহ্যাব জানায়, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শ্রেণিবিন্যাসে আবাসন ও নির্মাণ খাতকে অনুৎপাদনশীল খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং শ্রম অসন্তোষের কোনো ইতিহাস নেই। তাই এটিকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

সংগঠনটি আরও জানায়, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাত পুনরুজ্জীবিত হবে, সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ির মালিকানা আরও সহজলভ্য হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক অবদান রাখবে।

সম্পর্কিত খবর

সর্বাধিক পঠিত

রিহ্যাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর সৌজন্য সাক্ষাৎ, আবাসন খাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা
বসুন্ধরায় নেক্স রিয়েল এস্টেট-এর প্রিমিয়াম লাক্সারি আবাসন প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগ ও লাইফস্টাইলের সুযোগ