রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার সারাদিনব্যাপী শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষে গভীর রাতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করে।
প্রকাশিত ফলাফলে সভাপতি পদে ড. মোঃ আলী আফজাল ২৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আব্দুর রাজ্জাক ২১৬ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বিজয় অর্জন করেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
সহ-সভাপতি পদগুলোতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সহ-সভাপতি-১ হিসেবে মোহাম্মদ আকতার বিশ্বাস ২৫০ ভোট, সহ-সভাপতি-২ হিসেবে আবু খালিদ মো. বরকতুল্লাহ ২৫৫ ভোট এবং সহ-সভাপতি-৩ হিসেবে এ.এফ.এম উবায়দুল্লাহ ২৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অর্থ বিষয়ক সহ-সভাপতি পদে ড. মো. হারুন অর রশিদ ২৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান ৩১৭ ভোট পেয়ে সর্বোচ্চ ভোট অর্জন করে বিশেষভাবে আলোচনায় আসেন।
পরিচালক পদে মোহাম্মদ লাবিব বিল্লাহ্ ৩৩৮ ভোট পেয়ে সর্বোচ্চ ভোট অর্জন করেন, যা নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ফলাফল। একই পদে উম্মে জাহান আরজু ও হাবিবুর রহমান হাবিব সমান ৩০৪ ভোট পেয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকেন।
নির্বাচিত অন্যান্য পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন—এ.জেড.এম. কামরুদ্দিন, ক্যাপ্টেন মো. শাহ আলম, মো. খাজা নাজিবুল্লাহ, শেখ কামাল, মো. এমদাদুল হোসেন সোহেল, ড. এন. জোহা, আলহাজ প্রফেসর মো. ফারুক আহমদ, তাসনোভা মাহবুব সালাম, মো. জহির আহমেদ, মো. জাহিদ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মো. মোস্তফা কামাল, মো. এমদাদুল হক, মো. মাহবুবুর রহমান, এম. ফখরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল ফরহাদ ফিলিপ, সুরুজ সরদার এবং আলহাজ গোলাম কিবরিয়া মজুমদার।
চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এ.এস.এম আব্দুল গফফার মিয়াজী এবং সারিস্তা বিনতে নূর। এছাড়া রিহ্যাব চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নূর মোহাম্মদ, ইঞ্জি. এসকে নাজিম উদ্দিন, সৈয়দ ইরফানুল আলম, আশিস রায় চৌধুরী, হৃষিকেশ চৌধুরী ও এস এম শহিদুল্লাহ।
এই নির্বাচনে তিনটি প্যানেল অংশগ্রহণ করে। প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ মোট ১৫টি পদে জয়লাভ করে, যার মধ্যে সভাপতি, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো রয়েছে। অন্যদিকে আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ ১৪টি পদে বিজয়ী হয়। জাগরণ প্যানেল থেকে কোনো প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি।
নবনির্বাচিত নেতৃত্ব আবাসন খাতের সকল অংশীজন—ডেভেলপার, ক্রেতা, বিনিয়োগকারী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তারা মনে করছেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নীতিগত জটিলতা, উচ্চ নিবন্ধন ব্যয়, ব্যাংক ঋণের সীমাবদ্ধতা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার ধীরগতির মতো সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান সম্ভব।
এছাড়া নতুন কমিটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা, বিনিয়োগ সহায়তা বৃদ্ধি, আধুনিক নগরায়ন নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের। তাদের মতে, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে আবাসন খাতে নতুন গতি আসবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।











